স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির ফলে ফেনী সদরসহ জেলার সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিস মিলিয়ে এক বছরে ২২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন অর্থবছরে জেলার ৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মোট ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর আগের অর্থ বছরে ৩৪ হাজার ৩৪৩টি দলিল রেজিস্ট্রি থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২০২ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী সুমন চৌধুরী বলেন, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করেছে। এ অফিসে ৯ হাজার ৬৭৭টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ১০০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। এ ছাড়া লেমুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪ হাজার ৮৪৫টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১৫ কোটি টাকা, মতিগঞ্জে ৭ হাজার ১৫০টি রেজিস্ট্রি বাবদ ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা, দাগনভূঞায় ৭ হাজার ১৯৬৫টি রেজিস্ট্রি বাবদ ৩৬ কোটি ৪৬ হাজার টাকা, ছাগলনাইয়ায় ৪ হাজার ৩৯১টি রেজিস্ট্রি বাবদ ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ফুলগাজীতে ২ হাজার ৯৯৬টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১১ কোটি টাকা এবং পরশুরামে ২ হাজার ৬৩৪টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা, লালনের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৬ লাখ টাকা!

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সাফকবলা, দানপত্র, হেবা, বিল, এওয়াজ, এওয়াজ বিনিময়, নাদাবি পত্র, বণ্টননামা, নির্দেশপত্র, খাস মোক্তারনামা, চুক্তিপত্র, পার্টনার ডিড, পাওয়ার রহিতকরণ, ভুল সংশোধন ও ঘোষণাপত্রসহ বিভিন্ন দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে এ রাজস্ব এসেছে।
ভূমি রাজস্ব সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি (তহসিল) অফিস এবং উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে এ রাজস্ব আদায় হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কিছু কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এ খাতে রাজস্ব আদায় অনেকটাই বেড়েছে। অনলাইনে ভূমির দাখিলা ও খতিয়ান যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার এবং দলিলপত্র খুঁটিয়ে যাচাই করার কারণে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমেছে। ফলে প্রতারণার মাধ্যমে ভূমি রেজিস্ট্রির পথও অনেকটা বন্ধ হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
দাগনভূঞা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. অকিল উদ্দিন বলেন, “রেজিস্ট্রি খরচ, উৎসকর, স্থানীয় সরকার কর এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের করসহ সব অর্থ সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নির্ধারিত কোডে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়। এতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে।”
এদিকে স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি (তহসিল) অফিসগুলোতে অনেক সময় ১০ টাকার দাখিলার জন্য ভূমির মালিকদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। অতিরিক্ত এই ফির কারণে অনেকে জমি রেজিস্ট্রি করা থেকে বিরত থাকেন। দাখিলা নেওয়া সহজলভ্য ও হয়রানিমুক্ত হলে মানুষ জমি রেজিস্ট্রিতে আরও আগ্রহী হবেন বলে তারা মনে করেন।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, মৌজা রেটের অসামঞ্জস্য দূর করে এলাকাভেদে মৌজাকে তিন স্তরে ভাগ করে রেট নির্ধারণ করলে জনগণের ভোগান্তি কমবে, রেজিস্ট্রির হার বাড়বে এবং রাজস্ব আদায় আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পৌর এলাকার আশপাশের মৌজার জন্য একটি এবং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য আলাদা রেট নির্ধারণ করা গেলে ভূমি রেজিস্ট্রিতে সামঞ্জস্য ফিরে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

















