ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা ময়মনসিংহের ভালুকার নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের বিষয়ে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) আদালতে সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া তাঁর লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে আদালতে পাঠায়। আজ তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার সাথী আক্তারের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। ওই দিন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আগের আদেশ অনুযায়ী, আজ তাঁকে হাজির করা হতে পারে।
আদালত পরিদর্শক আরও জানান, আজ সাথী আক্তারের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে আবেদন করা না হলে আদালত কী আদেশ দেবেন, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায়ও জামিন দিতে পারেন।
মাসুদকে তালাক দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা!

সাথী আক্তার (৩০) ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পারলার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় আমজাদ আলীর মেয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (২৫ অক্টোবর)। ওই দিন বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং আট মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওগুলোতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচারের দাবি জানান। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
তবে সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের বক্তব্য নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ওই নারীর লাইভের সম্পূর্ণ ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছেন তিনি। সেখানে সরকারবিরোধী কিংবা সরকারের সমালোচনামূলক কোনো বক্তব্য পাননি।
ওসির ভাষ্য অনুযায়ী, সাথী আক্তারের বক্তব্য বাক্স্বাধীনতার আওতায় পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব থেকেই মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে জানান ওসি। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এখন সাথী আক্তারের জামিন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে।

















