প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র নয়, মুক্তির একমাত্র পথ...

গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র নয়, মুক্তির একমাত্র পথ ইসলাম

২১ জুন ২০২৪ ১২:১১ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মোখলেছুর রহমান সুমন:
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংবাদের শিরোনাম হয়। একটি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি সংক্রান্ত, আরেকটি জাতীয় সংসদ সদস্য আনোরুল আজীমের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি করে যে পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন, তার মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। অথচ এই মানুষটিই আইজিপির দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন!

এদিকে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে ভারতে ডেকে নিয়ে যে স্টাইলে হত্যা করা হয়েছে এবং লাশ টুকরো টুকরো করা হয়েছে, তা সাইকোথ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, আমরা কোন্ সমাজে বাস করছি? যেখানে একজন ব্যক্তি আইনের সর্বোচ্চ রক্ষক হয়ে নিজেই আইনের সর্বোচ্চ অপব্যবহার করছেন এবং হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন, সেখানে একজন সাধারণ মানুষের আইনী সুরক্ষার নিশ্চয়তা কতটুকু? রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার বৃত্তে থাকা একজন সংসদ সদস্যকে যেখানে খুন করে গরুর মতো ছাল ছাড়ানো হয়, ‘ভাগা’ দেয়া হয়, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়?

আরও পড়ুন

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো -এম আর হাসান

যোদ্ধাজাতির পাঠ: বাঁচতে হলে মরতে শিখো  এম আর হাসান

এই যে দু’জন ক্ষমতাধর ব্যক্তির দুটি ভিন্ন ঘটনা, এই দুটি ঘটনা যেন আমাদের বর্তমান সমাজের প্রতিচ্ছবি। এখানে রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি করে, গরীবের রক্ত চুষে নিয়ে ফুলে-ফেঁপে ওঠছে একটি বিশেষ শ্রেণি। তাদের জীবনে আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাসিতার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। অন্যদিকে বৃহত্তর আমজনতা ভুগছে রক্তশূন্যতায়। তাদের কাছে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা, সন্তানদেরকে একটি সাধারণ স্কুলে পড়ানো, তার জন্য একজন গৃহশিক্ষক রাখা, কিংবা অসুখ বিসুখে কম খরচে একটু চিকিৎসা পাওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, লাগাতার মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে ভয়ানক সিন্ডিকেট, শিক্ষা-চিকিৎসার নামে রমরমা ব্যবসা, সরকারি-বেসরকারি সকল খাতে লাগামহীন দুর্নীতি, চাকরির বাজারে ঘুষবাণিজ্য, হতাশা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, গুম, খুন, ধর্ষণ- এরকম হাজারটা অভিশাপ আমাদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এর শেষ কোথায়? এর সমাধান কিসে?

সমাধানের কথা উঠলেই বলা হয় এদেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এই দেশে ভোটের অধিকার নেই, মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। টকশোতে বসে বক্তারা যখন কথা বলেন, মনে হয়, সব কিছুর সমাধান ওই ভোটবাক্সে বন্দি। এ যেন সেই আলাদিনের চেরাগ, যেখানে ঘষে দিলেই এক দৈত্য বেরিয়ে আসবে আর বলবে, হুকুম করুন মালিক! কিন্তু আসলে কি তাই? এদেশে কি কখনো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয় নি? এদেশে কি ক্ষমতার পালাবদল ঘটে নি? ক্ষমতার পালাবদল এদেশেও ঘটেছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পালাবদল ঘটে নি।

আমরা হেযবুত তওহীদ বলছি, ভোটের বাক্সে সব সমস্যার সমাধান নেই। আমরা বলছি, চলমান পুঁজিবাদী গণতন্ত্র এদেশের মানুষকে মুক্তি দিতে পারে নি। সমাজতন্ত্র বা অন্য কোনো তন্ত্রমন্ত্র পারবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেবল একটি জায়গায় সকল সমস্যার সমাধানের নিশ্চয়তা আছে। সেটি হলো, আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থাকে কার্যকর করা। আমরা বলছি, স্রষ্টার দেয়া শাশ্বত, চিরন্তন, নিখুঁত ও নির্ভুল ব্যবস্থাই পারে মানব সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে যাবতীয় সমস্যার সমাধান দিতে। আজকের আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র, আমিরতন্ত্র সহ যত ব্যবস্থা আছে, তার প্রত্যেকটি যেখানে ব্যর্থ প্রমাণিত, সেখানে আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা ইসলাম কতটা সফল ছিল, তার কিছু প্রমাণ আজ আমরা তুলে ধরবো। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার পর একটি সফল জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের আবেদন কতটুকু, তা মূল্যায়নের দায়িত্ব পাঠকের।

জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা:
ইসলাম আবির্ভাবের আগে আরব সমাজের অবস্থা কতটা বাজে ছিল তা আমরা সবাই জানি। সময়টাকে ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াহ’ তথা ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তখনকার একটা বড় সমস্যা ছিল এই যে, আরবের মানুষেরা গোত্রে গোত্রে বিভক্ত ছিল, আর গোত্রগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ ও রক্তপাতে ডুবে ছিল। আজকে আমরা যেমন রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দলে, আদর্শিকভাবে নানা মতে, ধর্মীয়ভাবে বিভিন্ন ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত এবং এই হাজারটা বিভক্তি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত, ইসলামপূর্ব আরবেও ঠিক একই অবস্থা ছিল। তাদের গোত্রীয় বিভক্তি এতটাই প্রকট ছিল যে, এক গোত্র অন্য কোনো গোত্রের সাথে শত্রুতায় লিপ্ত হলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা অব্যাহত থাকতো। এক পুরুষ রক্তের বদলা নিতে ব্যর্থ হলে পরের প্রজন্ম সেই বদলা নিতো। কিন্তু ইসলাম এসে সেই দৃশ্য বদলে দিলো। সব ধরনের বিভাজন-বিভক্তি দূর করে আরবদের একটি পরিচয় দাঁড় করালো, আমরা সবাই আল্লাহর সৃষ্টি, আমরা সবাই মানুষ, আমরা ভাই-ভাই। আল্লাহর তওহীদ, লা ইলাহা ইল্লাহ (আল্লাহর বিধান ছাড়া কারো বিধান মানি না), এই একটি কথার ওপর তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেল। একটি ঐক্যহীন গোত্রভিত্তিক বিভক্ত জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠলো ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী মহাজাতি। আমরা বিশ্বাস করি, আজও সমস্ত দলীয়, আদর্শিক বা ফেরকাগত বিভক্তি দূর করা সম্ভব, যদি আমরা ওই একটি কথার ওপর ঐক্যবদ্ধ হই- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানবো না। এর বাইরে দ্বিতীয় কোনো সূত্র দিয়ে আমাদের বর্তমান বিভক্ত জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না।

ক্ষুধা-দারিদ্র্য নির্মূল করে অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা:
আরবরা পরিচিত ছিল এক অনাহারী অভাবী জাতি হিসাবে। তাদের চেহারা আর পোশাকে স্পষ্ট ছিল ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের ছাপ। কিন্তু যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলো, আল্লাহর দেয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু হলো, তখন আরবদের অর্থনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন চলে এলো। ইসলাম সুদকে হারাম করলো। অন্যদিকে গরীবের হক আদায় করার ব্যাপারে ধনীদেরকে উৎসাহিত করলো। দান-সাদাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করলো। যাকাতকে ফরজ করে দিলো। বেশি নয়, মাত্র এক দশকের মতো এই ব্যবস্থাটি চর্চা করার পর দেখা গেল মানুষে মানুষে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়ে গেল। দেখা গেলো, সামর্থ্যবান লোকেরা যাকাতের মাল নিয়ে গরীর মানুষের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু সেই যাকাত গ্রহণ করার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা আমাদের মুখের দাবি নয়, বরং ঐতিহাসিক সত্য, খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের সময় এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। ইসলাম মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে যে ভারসাম্য সৃষ্টি করেছিল, ইতিহাসের আরো কোনো তন্ত্র-মন্ত্র সেই নজির স্থাপন করতে পারে নি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
ইসলামী শাসনব্যবস্থায় কতটুকু সুশাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল তার একটি উদাহরণ তুলে ধরছি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমরের (রা.) শাসনামলে মিশরের গভর্নর ছিলেন আমর ইবনুল আস (রা.)। একদিন মিশর থেকে সেখানকার একজন অমুসলিম ব্যক্তি মদীনায় এসে খলিফার কাছে নালিশ করলেন, আমর ইবনুল আসের (রা.) এক পুত্র তার প্রতি অন্যায় করেছে। বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরে লোকটি খলিফার কাছে এর বিচার চাইলেন। তৎক্ষণাৎ মিশর থেকে আমর ইবনুল আস (রা.) ও তার পুত্রকে মদীনায় তলব করা হলো। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলো এবং আমর ইবনুল আসের (রা.) পুত্রের শাস্তি ঘোষণা হয়ে গেল। শাস্তি হিসেবে ওই অমুসলিম মিশরীয় লোকটি নিজ হাতে আমরের (রা.) পুত্রকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করলেন। লোকটি ন্যায়বিচার পেলেন এবং সন্তুষ্ট হলেন। কিন্তু খলিফা উমর (রা.) সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দিয়ে তিনি বললেন, এবার আমর ইবনুল আসকে পেটাও। মিশরীয় লোকটি বিস্মিত হয়ে বললেন, তার তো কোনো অপরাধ নেই, তাকে কেন মারবো? খলিফা ওমর (রা.) বললেন, তারও অপরাধ আছে। প্রথম অপরাধ এই যে, তার ক্ষমতার কারণেই তার পুত্র তোমার প্রতি এই অন্যায় করার সাহস দেখিয়েছে। আর দ্বিতীয় অপরাধ এই যে, তুমি তার কাছে এর বিচার চাইতে সাহস পাও নি, বিচার পেতে তোমাকে মিশর থেকে মদীনায় আসতে হয়েছে। তার অর্থ সে তার অধীনস্ত লোকদের ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ। মিশরীয় লোকটি বিনয়ের সাথে বলেন, মহামান্য খলিফা, আমি আমার বিচার পেয়ে গেছি, আর কারো প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়।

রসুল (সা:) ও তাঁর সাহাবীদের শাসনামলে ইসলাম কতটা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার এরকম উদাহরণ যদি দেয়া হয়, তাহলে এরকম একটি প্রবন্ধ নয়, একটি হাজার পৃষ্ঠার পুস্তকেও তা লিখে শেষ করা যাবে না। আমাদের উদ্দেশ্য তা নয়। বরং এই একটি ঘটনা থেকেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি, ইসলাম কতটা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। শুধু মুসলিম নয়, অমুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও ইসলাম ছিল সর্বোচ্চ সতর্ক। ‘ফোরাত নদীর তীরে যদি একটি কুকুরও না খেয়ে থাকে, তাহলেও ওমরকে এর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে’, খলিফা ওমরের এই উক্তি আজও ইতিহাস হয়ে আছে। বৃদ্ধ বয়সে তিনি ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য নিজের পিঠে করে আটার বস্তা বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই হৃদয়স্পর্শী গল্প শুনে শুনে আমরা বড় হয়েছি। শুনতে মনে হয় যেন রূপকথার গল্প, অথচ প্রত্যেকটি ঘটনা সত্য। বাস্তবেই ইসলাম যে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, অন্য যে কোনো জীবনব্যবস্থার কাছে তা রূপকথার গল্পই বটে।

সামরিক শক্তিতে আমূল পরিবর্তন:
সামরিক শক্তির কথা যদি বলা হয়, তাহলে ইসলাম আবির্ভূত হওয়ার আগে আরবরা ছিল তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ একটি জাতি। তৎকালীন দুই পরাশক্তির নাম ছির পারস্য ও রোম সাম্রাজ্য। ভুখা-নাঙ্গা আরবরা তাদের দিকে চোখ তুলে কথা বলারও সাহস পেত না। কিন্তু ইসলাম আবির্ভাবের পর আরবরা সামরিক শক্তিতে কতটা দুর্র্ধর্ষ হয়ে ওঠেছিল তা ইতিহাস। আলী (রা.), খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.), কাকা, দেরার এর মতো ইতিহাসের অপরাজেয় সামরিক কমান্ডারদের জন্ম দিয়েছিল ইসলাম। এর ফলাফল হয়েছিল এই, যে রোমান ও পারস্যের ভয়ে আরবরা তটস্থ থাকতো, সেই দুই পরাশক্তিকে পরাজিত করেই তারা মাত্র এক দশকের ব্যবধানে অর্ধপৃথিবীতে ইসলামী খেলাফতের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। কোনো সাম্রাজ্য বিস্তারের লোভ নয়, কোনো পার্থিব লাভ-লোকসানের হিসাব নয়, কেবল একটি আদর্শ, একটি চেতনা কিভাবে একটি দুর্বল ভীতু জাতিকে অপরাজেয় দুর্র্ধষ জাতিতে রূপান্তিরিত করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত কেবল ইসলাম।

শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসরতা:
রসুল (সা.) এর অগণিত সাহাবীদের মধ্যে মাত্র ৪০ জন পড়াশোনা জানতেন। এই পরিসংখ্যান থেকেই আন্দাজ করা যায় তৎকালীন আরবরা শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানার্জন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি ব্যাপারে কতটা পিছিয়ে ছিল। সত্যি কথা বলতে আরবরা ছিল মূর্খ ও কু-সংস্কারাচ্ছন্ন জাতি। তৎকালীন সভ্য জাতিগুলো তাদেরকে অভিহিত করতো ‘মরুবাসী বর্বর আরব’ হিসেবে।  কিন্তু ইসলাম এসে সেই মূর্খ-বর্বর আরবদেরকে কোথায় নিয়ে গেল? মধ্যযুগে ইউরোপ যখন অশিক্ষা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, তখন মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ওঠে বিশ্বের যাবতীয় জ্ঞানবিজ্ঞানের বাতিঘর। আপনাকে খুব কষ্ট করতে হবে না, গুগল বা ইউকিপিডিয়ায় ‘মধ্যযুগীয় ইসলামী বিশ্বের বিজ্ঞানীদের তালিকা’, এই কথাটুকু লিখে সার্চ দিন, কয়েকশ মুসিলিম জোতির্বিদ, জীববিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, অর্থনীতিবিদ, ভূতত্ত্ববিদ, গণিতবিদ, পদার্থবিদ, চিকিৎসাবিদ ও দার্শনিকের তালিকা পাবেন। এ কথা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলা যায়, মধ্যযুগে গোটা ইউরোপ, চীন, ভারত তথা বাকি সম্পূর্ণ পৃথিবী মিলিয়েও আপনি এত লম্বা তালিকা তৈরি করতে পারবেন না। হালাকু খান বাগদাদ দখল করার পর সেখানকার সমস্ত লাইব্রেরি ধ্বংস করে দেয়। ঐতিহাসিকদের দাবি, সেই লাইব্রেরিগুলো থেকে বা তার ধ্বংসাবশেষ থেকে যে কয়টা পাণ্ডুলিপি ইউরোপীয়রা হাতে পেয়েছিল সেগুলো থেকে এবং মুসলিম বিশ্বের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষা নিয়ে সেই জ্ঞানের ক্রমবর্ধমান বিকাশের মধ্য দিয়েই তারা আজকে জ্ঞান-বিজ্ঞানকে এতদূর নিয়ে এসেছে। এটা ইতিহাস যে, হালাকু খান বাগদাদ ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত এই শহরটিই ছিল তৎকালীন বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ এই ঘটনার কিছু দিন আগেও তাদের পরিচয় ছিল ‘মরুবাসী মূর্খ আরব’।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা:
আজকে যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তারা ইসলামকে নারী প্রগতির অন্তরায় হিসেবে ধারণা করেন। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আর ইসলামের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ীর নারীবিদ্বেষী বক্তব্য। কিন্তু এই ধর্মব্যবসায়ীদের কথা বাদ দিয়ে যদি আল্লাহর রসুল (স.) ও তাঁর সাহাবীদের সময়কার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে দেখা যায়, ওই সময় সমাজের প্রতিটি কাজে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল। তারা মসজিদে যেতেন, পুরুষের পাশাপাশি নামাজে অংশ নিতেন, খুতবা শুনতেন, বাজার ব্যবস্থা পরিচালনা করতেন, হাসপাতাল পরিচালনা করতেন, এমনকি যুদ্ধের মতো বিপজ্জনক জায়গাতেও তাদের উপস্থিতি ছিল। একজন নারীর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু নারী হওয়ার কারণে তাকে কোনো দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হয় নি, রসুল (স.) এর সময় এমনটা কখনো ঘটে নি। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গনে তাদের সরব উপস্থিতি ছিল, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অথচ ইসলামপূর্ব আরবের কথা চিন্তা করুন। সেখানে নারীদের অধিকার বলে কোনো কিছু ছিল না। সমাজে তাদের কোনো মূল্যায়ন ছিল না, পরিবারে কোনো অবস্থান ছিল না। কন্যাসন্তানের জন্ম হলে মায়েরা নিজেদেরকে অপরাধী মনে করতেন। পিতারা মেয়ে সন্তানদেরকে জীবন্ত কবর দিতেন, এমন ঘটনারও বহু নজির পাওয়া যায়। সেই নারীদেরকে কবর থেকে তুলে এনে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার দিয়েছিল! অথচ আজকে আমাদেরকে যারা নারী অধিকারের দীক্ষা দেয়, তাদের দেশে আজ থেকে একশ বছর আগেও নারীদের ভোট দেয়ার অধিকারটুকুই ছিল না। খোদ ইংল্যান্ডে ১৯২৮ সনে নারীরা পুরুষের সমান ভোটাধিকার লাভ করে।

বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা:
ইসলামে বিচারব্যবস্থা কতটা নিরপেক্ষ ছিল এবং বিচারকরা কতটা স্বাধীন ছিলেন তার উদাহরণ হিসেবে একটি ঘটনা তুলে ধরি। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) তখন মুসলিম জাহানের শাসক। তিনি বিশেষ প্রয়োজনে মদীনা থেকে ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানকার কুফা শহরের বাজার পরিদর্শনকালে তিনি দেখলেন এক ইহুদী ব্যক্তি একটি বর্ম বিক্রি করছে। বর্মটি দেখে আলী (রা.) এর কাছে খুব পরিচিত মনে হলো। তিনি দেখলেন, এটি সেই বর্ম যা তিনি ইহুদীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সিফফিনের যুদ্ধের সময় হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি দাবি করলেন, বর্মটি আমার। তুমি হয়তো সিফফিনের যুদ্ধকালে এটি কুড়িয়ে পেয়েছ, অথবা চুরি করেছ। ইহুদী লোকটি প্রতিবাদ করে বললো, মোটেই না, আমি এর মালিক। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কুফার কাজী তথা বিচারকের দরবার পর্যন্ত গড়ালো।

কাজী মহোদয় জিজ্ঞেস করলেন, মহামান্য খলিফা, বর্মটি যে আপনার এ ব্যাপারে কোনো সাক্ষী আছে কি? আলী (রা:) বললেন, আমার পুত্র হাসান ও আমার এক গৃহপরিচারক এ ব্যাপারে সাক্ষী আছে। তারা দুজনেই এই বর্মটি আমাকে ব্যবহার করতে দেখেছে। কিন্তু কাজী বললেন, এর বাইরে আর কোনো সাক্ষী আছে কি? খলিফা বললেন, না, তারা দুজনে ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই। কিন্তু সাক্ষী হিসেবে তারাই কি যথেষ্ট নয়?

কাজী বললেন, অন্য যে কারো ব্যাপারে আপনার পুত্র হাসানের একার সাক্ষ্যই যথেষ্ট। কিন্তু আপনি তার পিতা। পিতার পক্ষে পুত্রের সাক্ষ্য আদালতে আমলযোগ্য নয়। তাছাড়া আপনার গৃহপরিচারকের উপরও আপনার প্রভাব আছে। তাই তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য হবে না। কাজী মহোদয় নিজের অপরাগতা প্রকাশ করে বর্মটি ইহুদী ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিলেন। আলীও (রা.) বিষয়টি মেনে নিলেন, যেহেতু এ ব্যাপারে আর কোনো সাক্ষীও ছিল না।

এদিকে ইহুদী লোকটি বর্ম ফিরে পেয়ে বেশ খুশি ছিল। সে বর্মটি নিয়ে আদালত ত্যাগ করে। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর সে ফিরে আসে এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলে, সত্যিই এই বর্মটি আমি সিফফিনের যুদ্ধের সময় কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। আর যথার্থই মহামান্য খলিফা এর মালিক। আমি যখন আদালতের তলব পেয়ে এখানে আসছিলাম, তখন ভাবছিলাম খলিফা হিসেবে তিনি আদালতে বাড়তি সুবিধা পাবেন, আর আমাকে বঞ্চিত করা হবে। কিন্তু ইসলামে যে ন্যায়ের শাসন আজ আমি দেখেছি, তারপর আমি আর মিথ্যা আকঁড়ে রাখতে পারলাম না। আমি এই বর্ম ফিরিয়ে দিচ্ছি, আর এটাও ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকে আমি মুসলিম।

ইসলাম মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য কতটুকু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছিল, বিচারব্যবস্থাকে কতটা স্বাধীনতা দিয়েছিল, মানুষে মানুষে কতটা সাম্য ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল, এই ঘটনাটি তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শাসকের জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো:
একবার খলিফা ওমর (রা.) বায়তুল মাল থেকে মদীনার সব নাগরিককে কাপড় বিতরণ করলেন। জামা বানাতে গিয়ে দেখা গেল, সবার কাপড় ছোট হয়েছে। কিন্তু জুমার দিনে ওমর (রা.) যখন মসজিদে প্রবেশ করলেন, দেখা গেল তাঁর জামাটি বেশ বড়সড়। বোঝাই যাচ্ছিল, অন্তত দুই টুকরো কাপড় দিয়ে জামাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। খলিফা উমর (রা.) যখন খুতবা দিতে মিম্বরে দাঁড়ালেন তখন একজন সাধারণ মুসল্লি দাঁড়িয়ে বললেন, আমাদেরকে উপদেশ দেয়ার আগে আপনাকে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমাদের সবার জামা যেখানে ছোট হয়েছে, সেখানে আপনার জামা কিভাবে এত বড় হলো? আপনি কি দুই টুকরো কাপড় নিয়েছেন? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আপনি কিভাবে দুই টুকরো কাপড় নিলেন,

যেখানে আমরা সবাই পেয়েছি এক টুকরো?
খলিফার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, আমি বলছি। আব্বাজান খলিফা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কোনো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য তার হয় নি। বায়তুল মাল থেকে যে সামান্য পরিমাণ ভাতা দেয়া হয় তাতে তার খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে বহু বছর ধরে তিনি তালিযুক্ত কাপড় পরছেন। এই অবস্থায বায়তুল মাল থেকে কাপড় পাওয়ার পর আমি আমার ভাগের কাপড়টুকু আমিরুল মুমিনিনাকে দিয়েছি, যেন দুই টুকরো কাপড় মিলিয়ে তার জন্য একটা সুন্দর জামা হয়।

ওই মুসল্লি তখন বললেন, আমি আমার উত্তর পেয়ে গেছি। এবার আপনি খুতবা দিতে পারেন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সামান্য এক টুকরো অতিরিক্ত কাপড়ের জন্যও উমরকে (রা) মুসল্লিদের কাছে কৈফিয়ত দিতে হয়েছিল, অথচ তিনি তখন অর্ধপৃথিবীর শাসক।

ইসলাম কিভাবে জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করেছিল, তা এই একটি ঘটনা থেকে উপলব্ধি করা যায়। একইভাবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান অধিকার তথা সাম্য প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে নাগরিক জীবনে অধিকার বলতে যা বোঝায় তার প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা। অন্যদিকে গণতন্ত্র বলেন, সমাজতন্ত্র বলেন, অন্য সকল জীবনব্যবস্থার সফলতাই বই-পুস্তক বা টকশোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কি জিনিস, সমাজতন্ত্রের তথাকথিত মহান আদর্শ মানুষকে কতটা শান্তি দিতে সক্ষম, তা কখনো চোখে দেখা হয় নি। অথচ ইসলাম তা বাস্তবে করে দেখিয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, সেই সব ব্যর্থ তন্ত্র-মন্ত্রকেই সমাধান হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে বারবার। আর ইসলামকে চৌদ্দশ বছরের পুরাতন ধ্যান-ধারণা আখ্যা দিয়ে খুব সচেতনভাব পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, বর্তমান ব্যর্থ বিশ্বব্যবস্থায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও গতিশীল জাতি গঠনে ইসলামের প্রযোজ্যতা ও প্রয়োগযোগ্যতা নতুন করে বিবেচনা করার সময় এসেছে।

[লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৭১১৫৭১৫৮১]

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মহেশপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    খুলনা

গলাচিপায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

গলাচিপায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর গলাচিপায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনিক হলরুমে দিবসটি…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    বরিশাল

কাউনিয়ায় রতন হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

কাউনিয়ায় রতন হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের কাউনিয়ায় এনজিও কর্মী ফখরুল আলম রতন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: যুবদল নেতা নয়ন

জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: যুবদল নেতা নয়ন
জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

কুড়িগ্রামে যুবকের ছুরিকাঘাতে টাউন হলের কেয়ারটেকার নিহত, স্ত্রী আহত

কুড়িগ্রামে যুবকের ছুরিকাঘাতে টাউন হলের কেয়ারটেকার নিহত, স্ত্রী আহত
শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হল মিলনায়তন চত্বরে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে টাউন হলের কেয়ারটেকার নিহত এবং তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: হাসনাত

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করে দলটিকে রাজনীতিতে…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    নির্বাচিত

মিঠাপুকুরে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

মিঠাপুকুরে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
রংপুর,প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুরে শিরিনা আক্তার (১৯) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    রংপুর

বরিশালে হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালে হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
আজিজুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: “জড়তা, অন্ধত্ব, সংকীর্ণতা, ধর্মব্যবসা ও বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে নারীকেই জাগতে হবে, জাগাতে হবে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশাল জেলায় হেযবুত তওহীদের নারী বিভাগের…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    বরিশাল

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২৩ হাজার যাত্রী!

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২৩ হাজার যাত্রী!
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এসব ফ্লাইটের যাত্রী হিসেবে মোট ২৩ হাজার ৮৫ জন আটকা…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি!

সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি!
সাংবাদিকের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    বিনোদন

‘হাসিনা দেশে ফিরবেন হাতকড়া পরে’: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

‘হাসিনা দেশে ফিরবেন হাতকড়া পরে’: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে হাতকড়া পরেই ফিরতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগের বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    ময়মনসিংহ

এক দিনেই ২১৩ রান হৃদয়ের, সাকিবের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস!

এক দিনেই ২১৩ রান হৃদয়ের, সাকিবের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস!
সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এক দিনেই…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    খেলাধুলা

পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পরাজিত শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী শক্তিগুলো আবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

তাহসিফ হত্যা মামলা: তিন দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ!

তাহসিফ হত্যা মামলা: তিন দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ!
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়

৭ কিলোমিটার হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!

৭ কিলোমিটার হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির…
 ৭ নভেম্বর ২০২৬    জাতীয়