শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে নরসিংদী থেকে ৪ কোটি টাকা নিয়ে মাওনায় আসার পথে প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে বিকাশের এক ক্যাশ ম্যানেজারকে গুলি করে দুই বস্তা টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সাথে থাকা আরও দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে মারধর করে আহত করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ হিমেলের (৩৫) বাড়ি শ্রীপুর পৌর এলাকার বেড়াইদের চেলা গ্রামে। তিনি মাওনা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্য তিনজন হলেন: ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম মো. ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।
প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনা, লালনের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৬ লাখ টাকা!

হামলার শিকার বিকাশকর্মীরা জানান, নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে তারা মোট ৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় টাকা ভরে ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের একটি প্রাইভেট কারে করে তিন কর্মকর্তা নরসিংদী থেকে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশে রওনা হন।
তাদের বহনকারী গাড়িটি শ্রীপুর-গোসিংগা সড়কের কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত এলাকায় পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গাড়িটির গতিরোধ করে। এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে তারা। পরে তাকে টানাহেঁচড়া করে গাড়ি থেকে নামিয়ে বিকাশের অপর দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা গাড়ির পেছনের ডালার ভেতরে থাকা টাকাবর্তি দুটি বস্তা নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনিয়ে নেওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা হতে পারে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চারজন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ হিমেলকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিক সরকার বলেন, “আহত অবস্থায় চারজন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত রয়েছে। তাকে জরুরি ভিত্তিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
হামলার শিকার ব্যক্তিদের সাথে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “চার কোটি টাকা বহনের জন্য বিকাশের পক্ষ থেকে কোনো পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নরসিংদী, কাপাসিয়া এবং শ্রীপুর এলাকার ওপর দিয়ে বিপুল পরিমাণ এই টাকা বহন করা হলেও এই তিন থানার মধ্যে কোনো থানাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি, এমনকি ৯৯৯ নম্বরেও কল করা হয়নি। বিষয়টি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় নিয়ে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন ৪ কোটি টাকা তিনটি বস্তায় ছিল, যার মধ্যে দুটি বস্তা ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার মতো ছিনতাই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

















