প্রচ্ছদ    বিশেষ নিবন্ধ   সালাহ সুশৃঙ্খল জাতি গঠন ও...

সালাহ সুশৃঙ্খল জাতি গঠন ও সত্য প্রতিষ্ঠার অনিবার্য প্রস্তুতি

২১ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪৪ পিএম
বজ্রশক্তি ডেস্ক

মুস্তাফিজ শিহাব:
আজ পৃথিবীতে প্রায় আড়াইশো কোটি মুসলমান। পৃথিবীর প্রায় ৫৭টি দেশের সম্মিলিত এক বিশাল আয়তন আজ এ জাতির করতলগত। মানবসম্পদ থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ- সব দিক থেকেই এ জাতি এক নজরকাড়া অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। কিন্তু বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করলে বর্তমান মুসলিম জাতির থেকে বেশি অবহেলিত, উপেক্ষিত ও নির্যাতিত আর কোনো জাতি নেই। কিন্তু ইতিহাস বলে এ জাতির অবস্থা এতটা করুণ কখনোই ছিল না। এমনকি নব্যজাতি হিসেবে উন্মেষকালে সংখ্যায় নগণ্য হয়েও উম্মতে মোহাম্মদী একই সাথে তৎকালীন দুই দুইটি পরাশক্তিকে, (পারস্য ও রোম) পদানত করেছিল। কিন্তু আজ মুসলিম জাতি সংখ্যায় এত বিশাল হয়েও অন্যান্য জাতির কাছে ক্রমাগত মার খেয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আকিদাবিচ্যুতির ফলে তওহীদের রাস্তা থেকে সরে গিয়ে জেহাদ ত্যাগ করা। কারণ জাতি যখন জেহাদ অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করেছে তখনই জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে অন্য জাতির গোলামে পরিণত হয়েছে।

“জাতি যখন জেহাদ অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করেছে, তখনই জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে অন্য জাতির গোলামে পরিণত হয়েছে।”

তবে জেহাদ ত্যাগ করায় জাতি যখন ইসলামের সামগ্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয় তখন অপরিহার্য আমলগুলোর আকিদাও নষ্ট হয়ে যায়, যার মধ্যে অন্যতম আমল হচ্ছে সালাহ। আজ যে সালাহর সচিত্র রূপ আমরা দেখতে পাই তার মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝা যায়, যে লক্ষ্যে মহান আল্লাহ সালাহ করাকে ফরজ করেছিলেন সে লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে বর্তমানের ‘নামাজ’ অনেক দূরে সরে গিয়েছে।

আরও পড়ুন

কওমে লুত: এক অভিশপ্ত জাতির ইতিহাস –ওবায়দুল হক বাদল

কওমে লুত: এক অভিশপ্ত জাতির ইতিহাস –ওবায়দুল হক বাদল – Image 1

বর্তমানে আমরা সালাহকে কেবল একটি ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক আমল হিসেবে গ্রহণ করেছি, কিন্তু এর পেছনের যে মূল কারণ সে মূল উদ্দেশ্যকেই ভুলে গিয়েছি। আল্লাহ তাঁর প্রিয় রসুল কে প্রেরণ করেছিলেন একটি সঠিক আদর্শ (তওহীদ) ও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (ইসলাম) দিয়ে এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যাতে সে দীনকে সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেন (সুরা আল-ফাতাহ, ৪৮:২৮; সুরা আস-সফ, ৬১:৯; সুরা আত-তাওবাহ, ৯:৩৩)। আর এ গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য যে শারীরিক ও আত্মিক চরিত্র দরকার, সালাহ হচ্ছে সে চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ- যে সত্য আজ এ মুসলিম জাতির সামনে অনুপস্থিত।

‘সালাহ’ কীভাবে ‘নামাজ’ হয়ে গেল?
প্রথমেই ‘সালাহ’ কীভাবে ‘নামাজ’-এ পরিণত হলো সে সম্পর্কে কথা বলা দরকার। তাহলে সচেতন পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন কীভাবে ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাথে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমলের উদ্দেশ্যও এ জাতির মধ্য থেকে হারিয়ে গিয়েছে। পবিত্র কোর’আনে মহান আল্লাহ ‘সালাহ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে যে শব্দটি প্রচলিত আছে তা ‘নামাজ’। আরবি ‘সালাহ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সংযুক্ত করা, অনুসরণ করা বা সংলগ্ন থাকা। অর্থাৎ সহজে যদি সালাহর মূল উদ্দেশ্য বলি তাহলে সালাহ অর্থ, আল্লাহর হুকুমের সাথে সংযুক্ত থেকে সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতাকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা। যদি ‘নামাজ’ শব্দটির অর্থ বিশ্লেষণ করি তবে ফারসি ‘নামাজ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে উপাসনা করা, প্রার্থনা করা বা মাথা নত করা।

“সালাহ যে ধরনের শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়, সে শিক্ষা শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণের শৃঙ্খলার সাথেই তুলনা করা যায়।”
তাহলে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত, দ্বিতীয় স্তম্ভ- সালাহর নাম আরবী ভাষা থেকে ফারসিতে রূপান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে তার মূল স্বরূপও হারিয়ে যায়। সালাহ শব্দটির মধ্যে যেরূপ গতিশীলতা, সামষ্টিক শৃঙ্খলা এবং একটি বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তা ‘নামাজ’ শব্দে তো নেইই, বরং এর ফলে ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরের আচার-অনুষ্ঠানে (Ritual) পরিণত হয়ে গেল। ফলে যে সালাহ ছিল মুসলিম জাতির শারীরিক ও আত্মিক উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রশিক্ষণ, সে সালাহ হয়ে গেলো অন্যান্য ধর্মের উপাসনার মতই শুধুমাত্র সওয়াব কামাই করার একটি মাধ্যম।

ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি
সালাহ জাতিকে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। প্রাত্যহিক পাঁচবার যখন আজান দেয়া হয় তখন মুসলমানরা বিভিন্ন জায়গা থেকে একটি নির্ধারিত স্থানে মসজিদে সমবেত হয়। সবাই পবিত্র কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু, ছোট-বড়, কালো-সাদা, লম্বা-খাটো ইত্যাদি সব ধরনের বিভেদ ভুলে গিয়ে একটি দেহ ও আত্মায় পরিণত হয়। যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা তারা সালাতে শিখে সে শিক্ষা শুধুমাত্র সালাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রতিটি মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও সম্পর্কিত। এক নেতার আদেশে সবাই যখন একসাথে রুকু, সিজদাহসহ সালাতের অন্যান্য বিষয়গুলো মেনে চলে- ঠিক তেমনি সমাজের সবাই এক নেতার আদেশেই তাদের সমাজ জীবন পরিচালিত করবে- এ শিক্ষাই সালাহর মাধ্যমে লাভ করা হয়। কাজেই যারা সালাহ করবে তারা সর্বদা মনে রাখবে, যে ধরনের ঐক্যবদ্ধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে তারা মসজিদে দাঁড়িয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে সমাজেও চলবে। তারা সমাজে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিবে না, কারো সাথে অন্যায় করবে না, দোকানে বাটপারি করবে না, কারো হক নষ্ট করবে না- সর্বোপরি সমাজের একটি দেহ ও আত্মা হয়েই বসবাস করবে। কিন্তু আফসোসের সাথে বলতে হয় সালাহর এ প্রকৃত শিক্ষা আজ আমাদের মধ্যে নেই।

শৃঙ্খলার এক অন্যন্য শিক্ষাপদ্ধতি
যেকোনো জাতি যদি উন্নতি ও প্রগতির শীর্ষে আরোহণ করতে চায় তবে অবশ্যই তাদেরকে শৃঙ্খলিত হতে হবে। শেষ দীন বা জীবনব্যবস্থা ইসলামের মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে একটি সুশৃঙ্খলিত ও সুসংগঠিত জাতি হিসেবে তৈরি করতে চেয়েছেন- আর সালাহ সে লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

“সালাহ শব্দটির মধ্যে যেরূপ গতিশীলতা ও সামষ্টিক শৃঙ্খলা রয়েছে তা ‘নামাজ’ শব্দে নেই, বরং এর ফলে ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরের আচার-অনুষ্ঠানে পরিণত হয়ে গেল।”

সালাহর মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহ শৃঙ্খলার শিক্ষা লাভ করবে। সালাহর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের দিকে যদি তাকাই তাহলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়। প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একজন মো’মেন মূল যে লক্ষ্য অর্থাৎ দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সে সংগ্রামের জন্য তৈরি হয়। প্রথমেই আজানের ঘোষণা হলে সে অনুযায়ী মসজিদে উপস্থিত হওয়া। এরপর অযু করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন। ‘সফ’ বা কাতার সোজা করে দাঁড়ানো। ইমামের তাকবির বা আদেশ অনুসারে রুকু-সিজদা ও অন্যান্য সকল কিছু যথাযথভাবে পালন করা। সোজা হয়ে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সালাম ফেরানো পর্যন্ত প্রতিটি কাজে একজন মো’মেনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ যদি একটি আদেশও সুষ্ঠুভাবে পালন না হয় তবে সালাহ হবে না। তাই সালাহ যে ধরনের শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় সে শিক্ষা শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণের শৃঙ্খলার সাথেই তুলনা করা যায়। কিন্তু বর্তমানের মসজিদগুলোতে গেলে সালাহর সে রূপের বদলে জুবুথুবু হয়ে উপাসনা করার একটি ছবি দেখা যায়। যদি উপাসনাই মূল লক্ষ্য হত তবে এত নিয়মকানুনের আদৌ কী কোনো প্রয়োজন ছিল? সালাহ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, যার যেমন খুশি তেমন না করে তারা জাতিগতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে জাতীয় যে কোনো সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে, কারণ যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মত যে কোনো অন্যায় দূর করার জন্য এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতির কোনো বিকল্প নেই।

আনুগত্যের পরীক্ষা ও আদেশের ধারাবাহিকতা
আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে বলেন, “হে মো’মেনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রসুলের আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো তোমাদের মধ্যকার আমিরদের (সুরা নিসা ৩:৫৯)।” ইসলামের মূল উদ্দেশ্য অর্জনের জন্যই মহান আল্লাহ এ আদেশের ক্রমধারা দিয়ে দিয়েছেন। কারণ আল্লাহ যখন মানবজাতির মধ্যে শান্তি, ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত করার মাধ্যম হিসেবে সত্য দীন প্রেরণ করলেন এবং এ দীন প্রতিষ্ঠা করাকে ফরজ করে দিলেন তখন তিনি এ জাতির জন্য আদেশের একটি ক্রমধারাও ঠিক করে দিলেন। কারণ যে জাতি সংগ্রাম করবে তাদেরকে শৃঙ্খলিতভাবে একটি লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করতে হলে আদেশের নির্দিষ্ট ক্রমধারা অপরিহার্য।

“সালাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ইবাদত নয়; এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা একজন মো’মেনকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা প্রদান করে।”

আর এ আদেশের ক্রমধারা (Chain of Command) এর প্রতি শর্তহীন, প্রশ্নহীন ও দ্বিধাহীন আনুগত্য করা অপরিহার্য। আর সালাহ সে আনুগত্যের শিক্ষা দিয়ে থাকে। সালাতে দাঁড়ানোর পর ইমাম যখন ‘আল্লাহ আকবার’ বলে সালাহ শুরু করেন তখন কোনো অবস্থাতেই সে আদেশকে অমান্য করার সুযোগ নেই। এরপর থেকে প্রতিটি আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের মাধ্যমেই সালাহ পূর্ণ হয়। যদি কেউ মধ্যখান থেকে কোনো আদেশকে অমান্য করে তবে তারা সালাহ হবে না। এমনকি ইমামের আগে যদি রুকু বা সিজদায় করে তবে সেক্ষেত্রেও সালাহ হবে না। এই যে প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতাকে অনুসরণ করে সে অনুযায়ী কাজ করা, এ শিক্ষা শুধু সালাতে নয় বরং আমাদের সমাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ একজন মো’মেন যখন দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে তখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে তাঁর নেতাকে অনুসরণ করবে। নেতার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ এলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। এ আনুত্যের মাধমেই ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। তেমনি সমাজে যদি আনুগত্যের এ শিক্ষা বজায় না থাকে তবে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং তারা নিজেদের ইচ্ছেমত চলার ফলে অন্যান্য জাতির হাতে লাঞ্ছনার শিকার হবে। বর্তমান মুসলিম জাতির দুর্দশার দিকে তাকালেই আমার এ কথার সত্যতা পাওয়া যায়। সালাহ হচ্ছে সে শিক্ষাপদ্ধতি বা প্রশিক্ষণ যার মাধ্যমে আনুগত্যের শিক্ষা লাভ হয়।

জেহাদ ও সালাহর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
আল্লাহ তাঁর সত্য দীন প্রতিষ্ঠার যে দায়িত্ব তাঁর রসুলের উপর দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে রসুল (স.) সে দায়িত্ব তাঁর উম্মাহর বা জাতির উপর দিয়ে গিয়েছেন সে দায়িত্ব পালনের একমাত্র উপায় হচ্ছে ‘জেহাদ’। অনেকেই জেহাদ এর অপব্যাখ্যা দাঁড় করালেও প্রকৃত ইসলামে জেহাদ অর্থ সর্বাত্মক সংগ্রাম- অর্থাৎ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম করা।

কিন্তু সচেতন পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন যে এ সংগ্রাম এত সহজ নয়। এ সংগ্রামে একজন মো’মেনকে বহু কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার জন্য জীবন সম্পদ সব কিছু কোরবানি দিতে হবে। এ কোরবানি করার জন্য তার যে আত্মিক মনোবল প্রয়োজন সে মনোবল অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে সালাহ। মো’মেন যদি আত্মিকভাবে দুর্বল হয় তবে সে কখনোই দীন প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে তার জীবন ও সম্পদকে কোরবানি করতে পারবে না। তাই সালাহ হচ্ছে সে প্রশিক্ষণ যা শুধুমাত্র একজন মো’মেনের শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের প্রশিক্ষণ হিসেবেই কাজ করে না, বরং তার আত্মিক মনোবল দৃঢ় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করে। তাই দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যারা করবেন তাদের জন্য সালাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সালাহ হোক মুক্তির দিশারি
পরিশেষে বলা যায়, সালাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ইবাদত নয়; এটি ইসলামি জীবনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সালাহ সে প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষণ যা একজন মো’মেনকে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা ও সক্ষমতা প্রদান করে। যদি কোনো কিছুর সাথে সালাহ কে তুলনা করতে হয় তবে শুধুমাত্র সামরিক কুচকাওয়াজের সাথেই সালাহ কে তুলনা করা যাবে। কারণ সালাহর মাধ্যমে একজন মো’মেন ঐক্য, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এ তিনের সম্মিলিত শিক্ষা লাভ করে এবং এর মাধ্যমে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সংগ্রাম করতে পারে। তাই সময় হয়েছে সালাহর প্রকৃত শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করার। যদি সালাহর প্রকৃত শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় তবে আমাদের সমাজ সত্যিকার ভাবেই শান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্তে রূপান্তরিত হবে।

Photocard
টাইটেল সাইজ
লাইন স্পেস
অ্যাকশন
বামে বা ডানে সোয়াইপ করুন

২৪ বছর পর ভাইরাল নায়ক মান্নার সেই বক্তব্য, ‘আমি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করিনি’

২৪ বছর পর ভাইরাল নায়ক মান্নার সেই বক্তব্য, ‘আমি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করিনি’
২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফায়ার’ সিনেমা নিয়ে ২৪ বছর পর আবারও আলোচনায় ঢাকাই সিনেমার প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে তার একটি পুরোনো ভিডিও, যেখানে…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    বিনোদন

মেসির বিদায়ে বাংলাদেশের তারকাদের আবেগঘন পোস্ট!

মেসির বিদায়ে বাংলাদেশের তারকাদের আবেগঘন পোস্ট!
আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে বিদায়ী ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    বিনোদন

বিশ্বকাপ ফাইনালে কী হয়েছিল? এবার মুখ খুললেন মেসি!

বিশ্বকাপ ফাইনালে কী হয়েছিল? এবার মুখ খুললেন মেসি!
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। বিদায়ী ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর আবেগঘন বক্তব্যে নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায় তুলে ধরেন…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    খেলাধুলা

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নেতা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’!

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নেতা বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’!
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয়…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ-তৈরি পোশাকের বাজার বাড়াতে চায় বাংলাদেশ!

ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ-তৈরি পোশাকের বাজার বাড়াতে চায় বাংলাদেশ!
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

ওসিকে হুমকি দেয়া সেই বিএনপি নেতা সাগর বহিষ্কার

ওসিকে হুমকি দেয়া সেই বিএনপি নেতা সাগর বহিষ্কার
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি দেওয়া এবং জুলাই বিপ্লবের এক শহীদের চাচাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    ঢাকা

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই, তৈরি হলো ভুয়া কাবিননামা!

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই, তৈরি হলো ভুয়া কাবিননামা!
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর তার নামে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    ময়মনসিংহ

মধ্যরাতে আগুনে পুড়ল ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল!

মধ্যরাতে আগুনে পুড়ল ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল!
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলসহ অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাতের পর তা দ্রুত আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    ময়মনসিংহ

হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, আরও ৩৫ লাখকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য!

হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, আরও ৩৫ লাখকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য!
সারা দেশে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে আগামী এক মাসে…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে সংবিধানে আসছে নতুন বিধান!

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে সংবিধানে আসছে নতুন বিধান!
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে যাচ্ছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধানের তফসিলে সুনির্দিষ্টভাবে জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত, দিল্লি-এনসিআরেও তীব্র কম্পন!

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত, দিল্লি-এনসিআরেও তীব্র কম্পন!
রাতের নীরবতা ভেঙে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলা। মঙ্গলবার রাতে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন দিল্লি-এনসিআরসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    আন্তর্জাতিক

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে উঠল হলুদ-লাল কার্ড!

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে উঠল হলুদ-লাল কার্ড!
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও লিওনেল মেসিকে দেওয়া হলো হলুদ ও লাল কার্ড। তবে এগুলো কোনো শাস্তির কার্ড নয়; বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ শেষে বিশেষ স্মারক…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    খেলাধুলা

এক বাড়ির জন্য ৪১ লাখ টাকার সেতু!

এক বাড়ির জন্য ৪১ লাখ টাকার সেতু!
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি বাড়ির সামনে মাত্র ১১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকা ব্যয় হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের পর এর প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্প…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    বরিশাল

তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান!

তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান!
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    নির্বাচিত

বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের প্রতিনিধি ফরিদা শহীদ

বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের প্রতিনিধি ফরিদা শহীদ
শিক্ষার অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ। সরকারের আমন্ত্রণে এ সফরে তিনি ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত…
 ৭ অক্টোবর ২০২৬    জাতীয়